41256

জটিলতা নিয়েই সেন্সরে শাকিব খানের নোলক

বিনোদন প্রতিবেদন
ঢাকার একটি তারকা হোটেলে দুই বছর আগে জমকালো মহরতের পর টানা ২৮ দিন ভারতের হায়দরাবাদে ‘নোলক’ সিনেমার শুটিং করেন পরিচালক রাশেদ রাহা। শুটিং শেষে ইউনিট নিয়ে দেশে ফেরার পর পরিচালকের সঙ্গে দ্বন্দ্ব শুরু হয় প্রযোজকের। এরই জেরে পরের লট থেকে প্রযোজক সাকিব ইরতেজা পরিচালক রাশেদ রাহাকে ছাড়াই শুটিং শুরু করে দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে অনেক সময় পার হয়ে যায়। শুরুতে পরিচালক ও প্রযোজক সমিতিতে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করেন পরিচালক রাশেদ রাহা। অভিযোগের পর চলচ্চিত্রের দুই সমিতি একত্র হয়ে পরিচালক ও প্রযোজককে ডেকে পাঠান। মৌখিকভাবে পরিচালককে দিয়ে ছবির কাজ শেষ করার সিদ্ধান্ত হলেও তা মানেননি প্রযোজক। তিনি সাকিব সনেট অ্যান্ড টিমের নামে ছবির কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেন। বিষয়টি বুজতে পেরে রাশেদ রাহা তাঁর সিনেমার পরিচালকের মালিকানা ফিরে পেতে আইনের আশ্রয় নেন।

এই জটিলতার সমাধান না করেই ছবিটি ছাড়পত্রের জন্য জমা দেওয়া হয়েছে সেন্সর বোর্ডে। বিষয়টি নিয়ে অনেকেই অবাক হয়েছেন। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার বলেন, ‘এভাবে সেন্সর বোর্ডে ছবিটি জমা দেওয়া মোটেও ঠিক হয়নি। শুরু থেকেই ছবিটির পরিচালক হিসেবে আমরা রাশেদ রাহাকে চিনি। কাউকে কিছু না জানিয়ে অন্য কেউ এফডিসি থেকে কীভাবে অনাপত্তিপত্র নিয়ে গেল, এটা বিস্ময়কর!’

সমিতির মহাসচিব বদিউল আলম খোকন বলেন, শুটিং শুরু করার আগে পরিচালক ও প্রযোজকের সুসম্পর্ক ছিল। কয়েক দফা কথা বলে বুঝতে পেরেছি, শুটিং শুরুর একপর্যায়ে পরিচালক ও প্রযোজকের মতের অমিল হয়েছে। তার মানে এই নয়, পরিচালকের নাম ছাড়াই ছবি সেন্সরে যাবে। এ ধরনের ঘটনা পরিচালকসমাজকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের মতো। পরিচালক তার প্রাপ্য অধিকার যেন ফিরে পায়, সেই ব্যবস্থা আমরা করব।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের সদস্য শাহ আলম কিরণ আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বলেন, আমি যত দূর শুনেছিলাম, ছবিটি পরিচালনা করেছে রাশেদ রাহা। তার কাছে যেহেতু সব ধরনের তথ্যপ্রমাণ আছে, তাহলে অন্য নামে সেন্সর ছাড়পত্র দেওয়া উচিত না। যেহেতু রাশেদ রাহা একটি চিঠি সেন্সর বোর্ড কর্তৃপক্ষের কাছে দিয়েছে, সব সদস্য বিষয়টি পর্যালোচনা করব।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের সচিব মমিনুল হক ‘নোলক’ সিনেমা জমা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এখনো ছবিটি দেখার শিডিউল হয়নি। আজ দুপুরে মমিনুল হক বলেন, ‘কয়েক দিন আগে ছবিটি সেন্সর ছাড়পত্রের জন্য জমা দেওয়া হয়। যাঁরা ছবিটি ছাড়পত্রের জন্য জমা দিতে এসেছিলেন, তাঁদের জানিয়ে দিয়েছি, এই ছবির সেন্সর ছাড়পত্র যাতে না দেওয়া হয়, সে ব্যাপারে অভিযোগপত্র পরিচালক রাশেদ রাহা আমাদের কাছে জমা দিয়েছেন। ছবি দেখা কমিটির সদস্যদের কাছে অভিযোগপত্রটি দেব। এরপর তাঁরা সিদ্ধান্ত নেবেন, এই জটিলতা নিয়ে ছবিটি সেন্সর ছাড়পত্র পাবে কি না। আমি ওই প্রতিনিধিদলকে বলেছি দুই পক্ষ বসে সমস্যার সমাধান করে নিতে। নাইলে এই ছবি নিয়ে মামলা হতে পারে। তখন কিন্তু জটিলতা আরও বাড়বে।

ad

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *