40961

মাহি ও বাপ্পিকে তো আমার নায়ক-নায়িকাই মনে হয়নি : মিষ্টি জান্নাত

বিনোদন প্রতিবেদন
চিত্রনায়িকা মিষ্টি জান্নাত। দেশের পাশাপাশি ভারত-বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনার সিনেমায়ও অভিনয় করেছেন। আগামী মাসে এই নায়িকার নতুন সিনেমা ‘তুই আমার রানী’ মুক্তি পাচ্ছে। তার আগে ছবির ‘ক্রেজি প্যায়ার’ নামে একটি গান মুক্তি পাচ্ছে। এই ছবিসহ বিভিন্ন প্রসঙ্গে কথা বলেন তিনি।

ভারতের বাংলা ছবিতে কাজ করছেন। সেখানে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?
সেখানে সবাই অনেক পেশাদার। বাংলাদেশে এটা একেবারে দেখিনি।

কাদের অপেশাদার বলছেন?
শিল্পীরাই অপেশাদার। যাঁরা একটু ভালো অবস্থানে থাকেন, তাঁরা সবচেয়ে বেশি অপেশাদার। আমাদের এখানে শিল্পী থেকে শুরু করে কলাকুশলী, সবাই ভালো কাজ জানেন। তাঁরা সবাই পেশাদারত্ব দেখাতে ভুলে যান। চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে পরিচালকদের আরও অনেক কিছু ভাবতে হবে। নতুন প্রজন্ম কী চায়, তা নিয়ে গবেষণা করতে হবে। নতুন প্রজন্মের মানসিকতা বুঝতে না পারলে আমরা আরও পিছিয়ে পড়ব।মিষ্টি জান্নাত

নির্দিষ্ট করে বলুন।
আমাদের এখানে যাঁরা কারিগরি কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাঁরাও অনেক ছাড় দেন। আমি তো মনে করি, সবাইকে একটা নিয়মের মধ্যে কাজ করানো উচিত। শিফট অনুযায়ী কাজ করার প্রথা চালু করতে হবে। যেকোনো ব্যবসায় সিস্টেম আছে, শুধু আমাদের চলচ্চিত্রে কোনো সিস্টেম নেই। যে যার মতো করে চলছে। একজনের ক্ষতি হলেও তাতে আর কারও মাথাব্যথা নেই।

মাহিয়া মাহি

পড়াশোনা করলেন চিকিৎসাশাস্ত্রে। সিনেমায় অভিনয় করতে আসার পেছনের কারণ কী?
হঠাৎ করেই আসা। ওই সময় মাহিয়া মাহির ‘অগ্নি’ সিনেমা মুক্তি পায়। জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার প্রযোজক আবদুল আজিজের মেয়ে আমার ভালো বন্ধু। বন্ধুর বাবা আমার কাছে জানতে চান, সিনেমায় অভিনয় করব কি না। আমি বলেছিলাম, বাংলা সিনেমা আমাকে দিয়ে হবে না। তখন আমাকে ছবির ট্রেলার দেখালেন। দেখে মনে হলো, ভালোই তো। সিদ্ধান্ত নিলাম সিনেমায় অভিনয় করব।

মাহিয়া মাহিকে দেখে আপনি সিনেমায় এসেছেন?
না, মাহিকে দেখে নয়। ‘অগ্নি’ দেখে চলচ্চিত্রে অভিনয়ে আগ্রহী হয়েছি। মাহিয়া মাহিকে কিন্তু আমার ‘হিরোইন’ মনে হয় না। একজন হিরোইনের যেমনটা হওয়া উচিত, তিনি মোটেও তেমন না। আমার তো মনে হয়, মাহি আবার কিসের নায়িকা! তাঁকে দেখে আমার চলচ্চিত্রে আসার প্রশ্নই ওঠে না।

মিষ্টি জান্নাত ও বাপ্পী চৌধুরী

এমনটা কেন মনে হলো?
জাজ মাল্টিমিডিয়ার অফিসে একটা মডেল কর্নার ছিল। আমি সেখানে প্রথম মাহিয়া মাহিকে দেখেছি। দেখতে শুকনা ছিল। গায়ের রং কালো। প্রথম দেখায় পছন্দ করার কিছুই ছিল না। শুধু তা-ই নয়, বাপ্পিকেও নায়ক মনে হয়নি। তাঁর ফিটনেসও ভালো ছিল না। তাঁদের দেখে আমি আবদুল আজিজ ভাইকে সরাসরি বলেছিলাম, তাঁরা আপনাদের হিরো-হিরোইন! তাঁদের তো অনেক গ্রুমিং করাতে হবে। আমি যখন প্রথম সিনেমায় অভিনয় শুরু করি, তখন বাপ্পি এই কথাটা আমাকে বলেছিল। এখন কিন্তু বাপ্পি আমার খুব ভালো বন্ধু।

মাহিয়া মাহিকে এখনো হিরোইন মনে হয় না?
এখন মনে হয়। ও অনেক বদলে গেছে। হিরোইন হিসেবে বাংলাদেশে আমার সব সময় মৌসুমী আপুকে ভালো লাগে। এখনো তিনিই আমার প্রিয়।

নতুন কাজের খবর বলুন?
চলচ্চিত্রে আমি এসেছি ২০১৫ সালে। প্রথম সিনেমা ‘লাভ স্টেশন’। এরপর আরও তিনটি সিনেমায় নায়িকা হয়েছি। ভোজপুরি সিনেমায় ‘রংবাজ খিলাড়ি’তে অভিনয় করেছি। কলকাতায় সিনেমায় কাজ করেছি। সোহমের সঙ্গে ‘আমার প্রেম তুমি’ নামের একটি সিনেমার কাজ অর্ধেক হয়েছে। নামটি বদলে যেতে পারে। এর মধ্যে কলকাতার নতুন দুটি সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছি, নাম বলা বারণ আছে।

ad

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *