শাকিব সাফল্যের সঙ্গে কলকাতায় কাজ করে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করছে : নিপুণ

বিনোদন.কম।।
আপনার দৃষ্টিতে চলচ্চিত্রের এখনকার অবস্থা কেমন মনে হচ্ছে?
জানি না। আগের মতো যে নাই, তা নিশ্চিত। আমি যখন ২০০৬ সালে ছবিতে অভিনয় শুরু করেছিলাম, তখন ঈদে ১০-১২টি ছবি মুক্তি পেত। এরপর কমতে কমতে সাত-আটটি। আর এখন তো দু-তিনটি ছবি মুক্তি দিতে ঘাম ঝরে। এখন আন্তরিকতার জায়গা অনেক কম। সবাই সবার দোষ খোঁজে। কে কী করল, না করল—এসব। আসলে দোষ না খুঁজে সিনিয়র-জুনিয়র যাঁরা আছেন, সবাই মিলে যদি কাজে মনোযোগী হয়, তাহলে কাজের সংখ্যা বাড়বে। কাজগুলো ভালো হবে। কদিন আগে শুনলাম, পূর্ণিমা আপু ‘দহন’ ছবিতে কাজ করছেন না! তাঁর মতো একজন অভিজ্ঞ শিল্পী যদি নতুন করে কাজ শুরু করতেন, ভালো হতো।

শিল্পীদের মধ্যে বিভাজন আগে ছিল না?
এটা সব সময় ছিল। কিন্তু কখনোই জনসমক্ষে আসেনি। পর্দায় নিজেকে উপস্থাপনের জন্য একটি অন্য রকম প্রতিযোগিতা ছিল। সবাই আবার একসঙ্গে আড্ডা দিত। সবাই সবার স্বার্থ নিয়ে ভাবলেও তা পাবলিককে বুঝতে দিতেন না। আমার কেন জানি মনে হয়, চলচ্চিত্রে সাম্প্রতিক সময়ে শিল্পীদের মধ্যে যে জটিলতা এবং মুখ দেখাদেখিও বন্ধ হয়ে গেছে, তার শুরুটা হয় অপু বিশ্বাসের সন্তানসহ গণমাধ্যমে হাজির হওয়ার পর। এরপর ছিল চলচ্চিত্রশিল্পী সমিতির নির্বাচন। এরপর থেকে না সব কেমন যেন ওলট-পালট হয়ে যায়। আমি নিশ্চিত, কেউ না কেউ পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ছে; যা চলচ্চিত্রের বৃহত্তর স্বার্থে মোটেও ঠিক না।

এসব সমস্যার সূত্রপাত কবে থেকে বলে মনে করেন?
চলচ্চিত্রে গত কয়েক বছরের মধ্যে শাকিব খান ও অপুর বিষয়টি নিয়ে এত কাদা-ছোড়াছুড়ি হয়েছে, তা অবিশ্বাস্য। শাকিব পক্ষ এবং শাকিববিরোধী পক্ষ—এই ব্যাপারগুলোকে ঠান্ডা না করে উল্টো বাতাস দিয়েছে, যা মোটেও ঠিক হয়নি। একটি মানুষ যখন কাজ করবে, অনেক বেশি জনপ্রিয়তায় প্রতিপক্ষ থাকাটা স্বাভাবিক। প্রতিযোগিতাকে কেন আমি ব্যক্তিগত আক্রোশে পরিণত করব! শাকিব ও অপুর বিষয়কে চলচ্চিত্রের একটা পক্ষ ব্যক্তিগত আক্রোশে কাজে লাগিয়েছে।

শাকিব খানকে নিয়ে কেন এত সমস্যা?
শাকিব অনেক জনপ্রিয় একজন তারকা। আমি যখন এক যুগ আগে অভিনয় শুরু করি, তখন থেকেই সে জনপ্রিয়। চলচ্চিত্রে অশ্লীলতার সময়ও আমরা যখন কাজ করেছি, তখন অনেক কষ্ট হয়েছে। মান্না ভাইকে তাড়াতাড়ি হারালাম। ২০০৮ সালে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। তারপর থেকে কিন্তু শাকিবকে একা লড়তে হয়েছে। একটা ইন্ডাস্ট্রি একাই টেনে নিয়ে গেছেন, দেশের দর্শক তাঁকে সেরাদের সেরা করেছেন, এটা দিবালোকের মতো সত্য। অস্বীকার করেও কোনো লাভ নেই। এটা অনেকের চক্ষুশূল হয়েছেন।

শাকিব খানের নিজের কোনো ভুল ছিল?
যখন কেউ তারকা হবে, তাঁর কাছে নাম-যশ-টাকা একসঙ্গে আসবে, তখন তাঁকে কিছু ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে। শাকিব কিছু ব্যাপারে সতর্ক ছিল না। খুব সম্ভবত সে তাঁর বন্ধু চেনেনি, শত্রুও চেনেনি। তাঁর কোনটা করা উচিত, কোনটা করা উচিত নয়, তা বুঝতে পারেনি। এত কাজের ভিড়ে সে বুঝতে পারেনি, কোনটা তাঁর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। ভুলগুলো যা ছিল, তা তাঁকে ডেকে এনে বললেই হতো। অপুরও অনেক কিছুতে ভুল ছিল।

শাকিব খান নিয়ে আপনার মূল্যায়ন বলুন।
কিছুদিন আগে শাকিবের ‘ভাইজান এলো রে’ ছবির ট্রেলার দেখলাম। এরপর গানও দেখলাম। এত মানসিক চাপ, পারিবারিক চাপ, অনেক ঝড় তার ওপর দিয়ে গেছে—অনেক কিছুর পরও শাকিব খান কিন্তু ক্যামেরার সঙ্গে কোনো আপস করে না। এখান থেকে অনেকেরই অনেক কিছু শেখার আছে। এটা দেখে অনেকেরই বোঝা উচিত, আমাদের যার ওপর দিয়ে সমস্যা যাক না কেন, পর্দায় যেন তা বুঝতে না দিই। এমনকি ব্যক্তিগত বিষয়গুলো জনসমক্ষে না আনি। একটি ছবিতে প্রযোজকের অনেক টাকা লগ্নি হয়। তাই দর্শকের ছবি যেন দর্শকের কাছে যাওয়ার পরিবেশ পরিস্থিতি তৈরি করে দেওয়া হয়। শাকিবের কলকাতার ছবিগুলো কিন্তু অন্য রকম।

কেন এমনটা মনে হয়?
আমরা শিল্পী, কাদামাটির মতো। পরিচালক আমাদের যেভাবে তৈরি করবেন, সেভাবে নিজেরা তৈরি হব। এটা পুরোপুরি পরিচালকের যোগ্যতা। আমার কাজ হচ্ছে, পরিচালকের নির্দেশমতো শুধু শট দেওয়া। শাকিব খান কিন্তু বাংলাদেশের ছেলে, কলকাতায় কাজ করে সুনাম অর্জনের মধ্য দিয়ে সেখানে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল হচ্ছে। আমার শুধু মনে হয় যে সবার ওর প্রশংসা করা উচিত। উৎসাহ দেওয়া এবং আরও ভালো কাজের পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া। তাকে দেখে বাংলাদেশের আরও দশজন যদি উৎসাহিত হয়, তাহলে দেশেরই লাভ।

আগের সংবাদ
পরের সংবাদ