চলচ্চিত্রাঙ্গনে নায়িকার মায়েদের প্রতাপ

বিনোদন ডেস্ক ।।

আন্টি কী খাবেন? কোন আন্টি? আরে নায়িকার ‘মা’। শুটিং স্পটে নায়িকাদের মায়ের জন্য দরকার আলাদা সুযোগ সুবিধা। সেই সুযোগ সুবিধার ঝাক্কিটা শুধু পরিচালক-প্রযোজকরাই বুঝে থাকেন। বলতে গেলে, চুপ করে সহ্য করে থাকেন। এই চলটা যে নতুন তা কিন্তু নয়, আবার হুট করে বন্ধ হয়ে যাবে সেটাও বলা যায় না। ‘মা’রা নায়িকাদের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে থাকেন। একজন ‘মা’ থাকলে বলিউডের সেলিব্রেটিদের মতো অমন বডি বিল্ডার বডিগার্ডের কী দরকার!

নায়িকাদের মায়েরা যেমন তার মেয়েকে আগলে রাখতে চায়। তেমনি সে নায়িকাকে নিয়ে তখন শুটিং স্পটেও কম বিরক্তীর মুখে পড়তে হয় না। বিরক্তীটা কেমন? ঢাকাই ছবির জনপ্রিয় এক নির্মাতা বললেন,‘ রোমান্সের দৃশ্যে যদি এসে মা দাড়িয়ে থাকেন। তখন আমি বুঝাবো নাকি নায়ক-নায়িকা অভিনয়টা ঠিকভাবে করতে পারবে! এমনটা যে কত হয়েছে’

অনেক নায়িকার বেলায় কথা উঠে ম্যানেজারের মত নায়িকার ‘মা’-ই কাজের ব্যাপারটা ডিল করে থাকেন। নায়িকার শিডিউল পেতে আগে আন্টিকে ম্যানেজ করতে হয়। আন্টির জন্য উপহার পাঠাতে হয়। আর শুটিং স্পটে আন্টির জন্য বাড়তি সুবিধা তো আছেই।

শুধু যে কাজের ব্যাপারে টেনশন তা কিন্তু নয়। ব্যাক্তিজীবনেও রয়েছে তাঁর বড় ভুমিকা। কার সঙ্গে প্রেম করছেন। কার সঙ্গে ডেটিংয়ে যাচ্ছেন। সংসার কীভাবে করছেন। স্বামীর সঙ্গে বনিবনা হচ্ছে কিনা সবটাই নায়িকাদের মায়ের নজরদাড়িতে থাকে। এমন তথ্য আবার তাদের সহকর্মীরাই নানা সময়ে মজার ছলে দিয়ে থাকেন।

অর্চিতা স্পর্শিয়ার সঙ্গে নির্মাতা রাফসানের ডিভোর্সের কারণ হিসেব জানা যায় মায়ের ভুমিকার কথা। বউ নয়, শ্বাশুড়ির জন্যই তাঁর ঘর ভাঙ্গছে বলে মিডিয়ায় জানান। এমনকি অভিনেত্রী মিথিলা ও তাহসান দম্পতির বিচ্ছেদের পেছনেও তার মায়ের ভুমিকা রয়েছে বলে জানা যায়।

আঁচল যে মায়ের আচল কখনো ছাড়েনি সেটা চলচ্চিত্রের মানুষ এখনো ভুলেনি। সর্বত্র ছিল মায়ের যাতায়াত। পপি ও শাকিল খানের ডিভোর্সের পেছনেও নাকি নায়িকার মায়ের হাত রয়েছে। তিনি কখনো চাননি শাকিল খানের সঙ্গে পপির বিয়ে হোক।

মাহিয়া মাহিরও সর্বত্র সঙ্গী তাঁর মা। যে কোন শুটিং স্পটে ছিল তার মায়ের অবাধ যাতায়াত। সকল সিনেমার কথাবার্তা তার সঙ্গেই সারতে হত। এমনকি ছবির গল্পও তাকে শোনাতে হয় প্রথমে।

বিদ্যা সিনহা সাহা মিমের মা এখন শোবিজে বেশ আলোচিত। মিমের সঙ্গে দেশ-দেশান্তরে তিনি ঘুরে বেড়ান। আর সেই ঘুরে বেড়ানো নিয়ে অনেকে হাস্যরসও করে থাকেন।

অপু বিশ্বাস ও শাকিব খানের প্রেমের বাধা ছিলেন অপুর মা। আবার প্রেমের সবকিছু জানতেনও তাঁর মা। শোবিজের অপুর পথ চলার সঙ্গী তিনিও ছিলেন। একটা সময়ে অপুর সকল সিনেমার লেনদেন তার সঙ্গেই করতে হত।

নুসরাত ফারিয়া কিংবা মেহজাবিনদের ‘মা’ কম যান না। মেয়ের সঙ্গে সারাক্ষনই শুটিং স্পটে দেখা যায় তাঁদের।

এই ধারাটা একটা সময় মেহের আফরোজ শাওন, রিচি সোলায়মান কিংবা মোনালিসার মায়েদের মধ্যেও ছিল। এই ধারাটা যে হাতে গোনা কয়েকজন এরকম নয়। সব মায়েরাই কেমন যেন মেয়েকেআকড়ে ধরে। মেয়ের দেখভালের নামে প্রহরী বনে যান। যেটা মাঝেমধ্যে বিরক্তীকর হয়ে উঠে আশপাশ অনেকের জন্য। উৎস: বাংলা ইনসাইডার

adv






আগের সংবাদ
পরের সংবাদ