ট্রেলারে ঝড় তুললেন পর্নস্টার মিয়া মালকোভা

বিনোদন.কম।।
ঘোষণা মাত্রই ঝড় উঠেছিল। ট্রেলার প্রকাশ পাওয়া মাত্র নেটদুনিয়ায় রীতিমতো সাইক্লোন। সামনে এল পর্নস্টার মিয়া মালকোভাকে নিয়ে রাম গোপাল ভার্মার ছবির ট্রেলার। আজ নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে এ ট্রেলার রিলিজ করেন পরিচালক নিজেই। এতদিনে সকলেই জেনে গিয়েছেন ছবির নাম। ‘গড, সেক্স অ্যান্ড ট্রুথ’ নামে সে ছবির কথা যেদিন রামু ঘোষণা করেছিলেন, সেদিনই নেটদুনিয়ায় ঝড় উঠেছিল। জিএসটি নিয়ে চর্চা গত একবছর ধরে। ফোড়ণ কেটেছিলেন রাহুল গান্ধীও। তবে রামু তার যে ব্যাখ্যা দিলেন তা প্রায় তুলনারহিত। এদিকে পর্নস্টারদের প্রতি রাম গোপালের অবসেশন কারও অজানা নয়। নিজের আত্মজীবনীতেও তিনি সে কথা স্বীকার করেছিলেন। তাঁর লেখা রীতিমতো প্রণয়পত্র হয়ে উঠেছিল পর্নস্টার টোরি ব্ল্যাকের প্রতি। জীবনে হতাশার মুহূর্তে পর্নস্টাররা যে তাঁকে অন্ধকার থেকে বাঁচিয়েছেন, সে কথা গোপন করেননি রামু। এ নিয়ে বলিপাড়ায় ছুঁৎমার্গ আছে। কিন্তু ভাবের ঘরে চুরি বরদাস্ত করেন না রাম গোপাল। অতএব নিজের জীবনের কথা বলতে গিয়েও পর্নস্টারদের কথা লোকাননি। তাঁদের নিয়ে ছবি করতেও তাই দ্বিধা করেননি।

ফলত তাঁর হাত ধরেই আরও এক পর্নস্টারের আগমন হিন্দি ছবির দুনিয়ায়। সানি লিওনের পর মিয়া মালকোভা। যদিও সানিকে দেখা গিয়েছিল কাহিনির চরিত্র হিসেবে। কিন্তু এখানে মিয়াকে নিয়ে ছবিটি অনেকাংশেই তথ্যচিত্রের আঙ্গিকে। যেখানে মিয়ার জীবনও ছবির বিষয়বস্তু। তা কে এই মিয়া মালকোভা? কেন তাঁকে নিয়ে এল হিল্লোল রামুর? পর্নদুনিয়ায় মিয়া বেশ সাড়া জাগানোই নাম। নীল ছবির দুনিয়ার বাইরেও তাঁর খ্যাতি। কেননা নিরাপদ যৌনতা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রচার করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। মিয়া জানিয়েছিলেন, নীল ছবিকেও খাটো করে দেখার কোনও প্রশ্ন নেই। এমনকী সব অভিভাবকরা যেমন পর্নস্টারদের একঘরে রাখেন মিয়ার মা সেখানেও ব্যতিক্রম। তিনি নাকি মেয়ের কাজ দেখেওছেন। মতামতও দিয়েছেন। এতটাই উদার তাঁর পারিবারিক পরিবেশ। একটা সময় অবশ্য পুরুষের সঙ্গে যৌনতা থেকে সরে আসেন মিয়া। বদলে লেসবিয়ান ছবিতেই তাঁকে বেশি দেখা দিয়েছে। কিন্তু পর্নস্টার হয়েও নারী ক্ষমতায়নের বিভিন্ন দিকগুলি নানা সময়ে তুলে ধরেছেন তিনি। পর্ন তাই যতই যৌনচাহিদা মেটানোর গোপন হাতিয়ার হোক, আসলে তা নারী স্বাধীনতার এই দিকটিও খুলে দেয়। যা বরাবর অ্যাপ্রিসিয়েট করেছেন রামগোপাল।

ছবির ট্রেলারে মিয়ার মুখেও সেরকমই কিছু কথা শোনা গেল। পর্ন যেমন শারীরিক সুখের স্বর্গভূমি, তেমনই এক পুরুষে সীমাবদ্ধ থাকার তথাকথিত ধারণাকেও ভাঙতে দেখা যাচ্ছে মিয়াকে। স্বভাবতই তাঁর এ মতামত বিতর্কের অবকাশ রাখে। তর্ক তো থাকবেই। কিন্তু মালকোভাকে কি অস্বীকার করা যাবে? আপাতত ট্রেলার যে সাইক্লোনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তাতে অন্তত তা মনে হচ্ছে না।

আগের সংবাদ
পরের সংবাদ