শাহরুখ খানের আপকামিং সিনেমা ‘জিরো’র গল্প বললেন পরিচালক (ভিডিও)

শাহরুখ খানের আপকামিং সিনেমার পরিচালক ‘জিরো’র পরিচালক আনন্দ এল রাই। হাতে গোনা কয়েকটি সিনেমা নির্মাণ করলেও সবগুলোই প্রশংসিত ও ব্যবসাসফল। নতুন এই সিনেমা নিয়ে তিনি মুখোমুখি হয়েছিলেন ভারতীয় গণমাধ্যমের। সেখান থেকে চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো:

অবশেষে সিনেমার একটা টাইটেল হলো, মুক্তির তারিখ প্রকাশ করলেন, কিন্তু কেন ‘জিরো’ এবং ডিসেম্বরের ২১ তারিখ মুক্তির জন্য বিশেষ মনে হলো?

আমি সাধারণ মধ্যবিত্ত একটি পরিবারে বড় হয়েছি। যেখানে গাড়ি, এয়ার কন্ডিশনার কিংবা ফাইভ স্টার ডিনার ছিল না। কিন্তু তখনো আমি খুশি ছিলাম। কারণ আনন্দটা তখনই আপনার কাছে ধরা দিবে যখন আপনি নিজেকে জিরো ভাববেন। খান সাবকা ( শাহরুখ খান) চরিত্রটা ঠিক তেমনি এই সিনেমায়।

ডিসেম্বরে মুক্তি দেওয়ার কারণ, এ মাসে কেন যেন আমরা সবাই উদযাপনে মাতি। এই আনন্দ উদযাপনের মধ্যেই এমন একটি ছেলেকে পরিচয় করিয়ে দিতে চাই। ছেলেটার শারীরিক অসম্পূর্ণতা রয়েছে, এর ফলে তাঁর জীবনে যে অসর্ম্পূর্ণতা রয়ে যায় তা সম্পূর্ণ করার গল্প। এটা সম্পূর্ণ করবে উত্তর প্রদেশের মেরুত থেকে নিউইয়র্কের জার্নির মাধ্যমে। অসম্পূর্ণতার মাঝেও যে সৌন্দর্য্য থাকে সেটা আমরা উপভোগ করব।

কেন শাহরুখ খান?

এই গল্পটা ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলাম, শাহরুখের ক্ষমতা আছে সেটা ছড়ানোর। শাহরুখ তেমনই একজন বড় তারকা। খান সাব এমনই একজন তার যদি দুটো পাও কেটে ফেলা হয় তবুও সে শক্তভাবেই দাড়াতে পারবে। তিনি বামন হয়েছেন তাতে তার স্টার খ্যাতি কোনো অংশে কমবে না।

ভিএফএক্স নিয়ে কঠিন একটা পথ পাড়ি দিতে হয়েছে…

আমি এখানে ‘কঠিন ‘ শব্দটার চেয়ে ‘উপভোগ্য’ শব্দটি ব্যবহার করতে চাই। কারণ ব্যাপারটা খুব মজার ছিল। অবশ্যই এটা ভিএফএক্স নির্ভর একটি সিনেমা, কিন্তু ভিএফএক্সটা এসেছে গল্পের প্রয়োজনেই। অহেতুক কিছু ব্যবহৃত হয়নি।

যেখানে শাহরুখ, সেখানে কি অন্য বড় স্টার দরকার ছিল, ক্যাটরিনা কাইফ এবং আনুশকা শর্মা কি বড় কোন ভুমিকা পালন করবে?

বড় নাম বলেই আনুশকা ও ক্যাটরিনাকে নেয়া নয়, চরিত্রটার জন্য তারা উপযোগি ছিলেন। সিনেমা দেখার আগে অনেকে বলতে পারেন বড় স্টার সেট করেছি। কিন্তু বাস্তবিক যখন দর্শক দেখবেন। তখনই উদঘাটন করতে পারবেন কেন তাদের নেয়া হয়েছে। আমি নতুন পিচে নতুন বলে খেলতে পছন্দ করি, পুরনো কোন সেটআপের জন্য এই জুটি নেয়া নয়।

এমন একটি বিষয় নিয়ে সিনেমা। বলিউডের অন্যতম বড় স্টারকে পাওয়া গেছে, টেনশন হয়…

হিটস এবং ফ্লপ আমার কাছে কোনো বিষয় নয়। নতুন কাউকে নিলে হয়তো টেনশনে থাকতে হতে। কিন্তু যখন খান সব সিনেমাটি করার জন্য রাজি হলেন। তখনই আমার জায়গা থেকে আমি সফল হয়েছি। আমি তার কাছে ঋনি তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে স্টার হয়েও যে কোন গল্পে নিজেকে মিলিয়ে দেয়া যায়।

জিরো কি নতুন কোনো অধ্যায় তৈরি করতে পারবে বলিউডে?

সে শব্দটা আমি অন্য কারো কাছে শুনতে পছন্দ করবো। নিজের মুখ দিয়ে কিছু বলবো না। তবে এটা বলতে পারি মানুষ অনেকদিন সিনেমাটি নিয়ে আলোচনা করবে। অনেকদিন বেঁচে থাকবে সিনেমাটি।

শাহরুখকে সিনেমায় নেয়ার আগে যতটা জানতেন, সেখান থেকে গত একবছরে বাড়তি কী জেনেছেন?

পরিচালক হিসেবে হয়তো আমি অতটা অভিজ্ঞতা সম্পন্ন নই। কিন্তু ৪৬ বছর বয়স্ক একটা মানুষের জীবনের চলতে গিয়ে অনেক অভিজ্ঞতাই জমা হয়। সেখান থেকে এক কথায় বললে, তিনি সৎ এবং বুদ্ধিমান একজন মানুষ। সে নিজের ভুলগুলো থেকে যেমন নিজে শেখে তেমনি অন্যকে শেখায়। তার সঙ্গে থেকে মনে হয়েছে নিজেকে অনেক বেশি পরিনত করতে পেরেছি।

হতাশ হননি যখন অস্কার দৌড়ে ভারতের সিনেমা ‘নিউটন’ হেরে গেল?

যখন আমি একটি সিনেমা দেখি তখন ভাবি না এটা ফেস্টিবলে যাওয়া নাকি অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত। এটা এমন একটি গল্প যা সারা ভারতের জানা দরকার ছিল, আমার মেয়েও তার মধ্যে। আমরা মুখেই বলি ভারত সবচেয়ে বড় গনতান্ত্রিক দেশ। বাস্তবিক তা কতটা আছে? যদি পরবর্তী ভোটে দশজন মানুষও এই সিনেমাটির জন্য উৎসাহিত হয়ে ভোট দিতে আসে, সেটাই নিউটনের সাকসেস হবে।

 

আগের সংবাদ
পরের সংবাদ